শিরোনাম:
ভোলা, রবিবার, ১ আগস্ট ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮

ভোলার সংবাদ
বৃহস্পতিবার ● ৪ জুলাই ২০১৯
প্রথম পাতা » আইন ও অপরাধ » দুলারহাটে অপহরণ মামলার ঘটনা নিয়ে তোলপাড়!
প্রথম পাতা » আইন ও অপরাধ » দুলারহাটে অপহরণ মামলার ঘটনা নিয়ে তোলপাড়!
১৩৪ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ৪ জুলাই ২০১৯
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

দুলারহাটে অপহরণ মামলার ঘটনা নিয়ে তোলপাড়!

---
চরফ্যাশন প্রতিনিধি: চরফ্যাশন উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের চরযমুনা গ্রামের নুরুল ইসলাম ওরফে ইউসুফ মাষ্টার ২৫ বছর নিখোঁজ থাকার পর আদালতে বাতিজা রাসেল বাদী হয়ে  ৯জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বিজ্ঞ আদালত দুলারহাট থানাকে ঘটনা সত্য হলে তদন্তপূর্বক মামলা গ্রহণ করে অথবা রিপোর্ট প্রদানের জন্যে আদেশ দেয়া হয়েছে। অপহরণের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মূল ঘটনা উৎঘাটনের দাবী জানিয়েছেন ইউসুফ মাষ্টারের পরিবারের পক্ষ থেকে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নীলকমলের চরযমুনা গ্রামের সুখরঞ্জন, নন্দলাল, হরলাল, অনুকুল ও বীরেন চন্দ্র বেপারীগংরা আমার চাচা ইউসুফ মাষ্টারকে চিকিৎসার করার আশ্বাসে গত ৫ জানুয়ারী ১৯৯৪ তারিখে সকাল ১০টায় বাড়ী হতে আমার চাচা নুরুল ইসলাম ওরফে ইউসুফ মাষ্টার মূল্যমান দলিল এবং কাগজপত্র নগদ টাকাসহ রওনা দিয়ে আসে। দীর্ঘদিন ভারত হতে চিকিৎসা শেষে না আসায় তার কোন সংবাদ না পাওয়া আমার চাচা অবিবাহিত থাকায় আমরা অভিভাবক ও নিকট আত্মীয় হিসাবে খোঁজ খবর নিতে থাকি। চাচার বিষয় প্রতিপক্ষকে জিজ্ঞেস করলে কোন সঠিক উত্তর না দিয়ে বিভিন্ন সময় নানান কথা বার্তা বলে। তিনি জীবিত না মৃত তার অবস্থান সম্পর্কে আমরা সন্দিহান হয়ে পরি। তৎকালীন ১৬ নভেম্বর ১৯৯৪ তারিখে চরফ্যাশন থানায় সাধারণ ডায়রী করি, যার নং ৫৮০। ওই সময় নিখোঁজের বিষয় একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
আমি ও আমার পরিবার নিরুপায় হয়ে বিগত ২৬ ডিসেম্বর /১৮ ও ১৩ জানুয়ারী/১৯ তারিখে বিজ্ঞ আইনজীবি সাইফুল ইসলাম সরকারের মাধ্যমে চাচার সন্ধান চেয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক ৩টি নিগ্যাল নোটিশ প্রদান করি। এই সকল কর্মকান্ডে সুখরঞ্জন, নন্দলাল ও অনুকুলগংরা ক্ষিপ্ত হয়ে ৩ এপ্রিল/১৯ তারিখে লাঠি-শোঠা দিয়ে আমি ও আমার পিতা আঃ হককে মারধর করে। এবং বলে বেড়ায় আর কোন সময় বর্তমান ও ভবিষ্যতে আইনের আশ্রয় নিলে আমাদেরকে খুন জখম করার হুমকী প্রদান করেন।
এ ছাড়াও আমার চাচা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর তৎকালীন স্থানীয় নীলকমল ইউপির চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন লিখন দীর্ঘ ১৫-২০ বছর চেয়ারম্যান থাকায় অবস্থায় আমাদেরকে বিষয়টি সঠিক ফয়সালা দিবে এবং আমার চাচার ব্যপারে চাপ প্রয়োগ করবে বলে খাল ক্ষেপন করেছেন বলে সংবাদকর্মীদের কাছে লিখিত অভিযোগে জানা গেছে। আমরা নিরুপায় হয়ে চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সিআর ১৮১/১৯(চর-দুলা)মামলা দায়ের করি। মামলাটি দুলারহাট থানার ওসিকে তদন্তপূর্ব রির্পোট প্রদানের দায়িত্ব দেয়া হয়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চরযমুনা গ্রামের খোরশেদ আলম বলেন, ইউসুফ মাষ্টারের অনেক জমি জমা ছিল। টাকা ছাড়া হিন্দু-মুসলিম ছেলে মেয়েদেরকে প্রাইভেট পড়াতেন। নমকান্দি তার বেশ সুনাম ছিল তাকে ভারত নিয়ে গেছে বলে আমরা শুনছি। তবে ফিরত আসতে দেখা যায়নি।
স্থানীয় নীলকমল ইউপি‘র চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন হাওলাদার বলেন, ইউসুফ মাষ্টার আমার বন্ধু মানুষ ছিলেন, তার নিখোঁজের সংবাদ শুনেছি। দুলারহাট থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহা জালাল বলেন, তার নিখোঁজের ঘটনা সত্য। বীরেনের পরিবারের সাথে ইউসুফের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। আমি ঘটনা স্থলে দু‘বার গিয়েছি। আরো যাব মূল ঘটনা উৎঘাটনের চেষ্টা চলছে।
দুলারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মিজানুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পেলাম ইউসুফ মাষ্টার নিখোঁজ রয়েছেন। তার সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। রাসেল বাদী হয়ে যে মামলা করেছে। মামলাটি আদালত থেকে আমার উপর তদন্তের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করা হবে। মামলার বাদী রাসেল বলেন, আমি প্রশাসনের কাছে চাচা অপহরণের ঘটনা উৎঘাটনের দাবী করছি। আজ আমার ও পরিবারের কাছে শূণ্যতা মনে হচ্ছে। ২৫ বছর পর মামলা দায়ের করছি।
-এমএএইচ/এফএইচ





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)