শিরোনাম:
ভোলা, রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

ভোলার সংবাদ
মঙ্গলবার ● ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
প্রথম পাতা » জানা অজানা » বাংলার কিছু ঐতিহ্য যা এখন হারাতে বসেছে ! ! !
প্রথম পাতা » জানা অজানা » বাংলার কিছু ঐতিহ্য যা এখন হারাতে বসেছে ! ! !
৫৪০ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বাংলার কিছু ঐতিহ্য যা এখন হারাতে বসেছে ! ! !

 

ডেস্ক রিপোর্ট •

---

গরু, নাংগল মই আগেকার দিনে কৃষকদের জমি চাষের জন্য ছিল প্রধান একমাত্র উপকরণ। অথচ বর্তমান যুগে অাধুনিকতার তালে তালে চাষের এই সব উপকরণ হারিয়ে যাচ্ছে বর্তমান যুগে জমি চাষ করা হয় ট্রাক্টর দিয়ে কাঠের তৈরী নাংগল বাঁশের তৈরী মই জমি চাষের এই উপকরণগুলো দেখতে হলে একসময় যাদুঘরে যেতে হবে

/

---

ঘানিমানে কষ্ট। দীর্ঘকাল বা দীর্ঘ সময় ধরে কষ্টকে বহন করে চলাকে ঘানি বলে। ছোট বেলায় বাবার মুখে শুনেছি সংসারের ঘানি টানতে টানতে বাবার অতিষ্ট হবার কথা। মায়ের মুখে শুনেছি রান্না ঘরের হাড়ি সামলানো ঘানির কথা। মোট কথা ছোটকাল থেকে এই ঘানির সাথে আমরা এমন ভাবে পরিচিত যে, বড় হয়ে আজ এই ঘানি নিজের জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছে, হাজার চেষ্টাতে মুক্ত হতে পারছি না। সরষে দানা থেকে খাঁটি সরিষার তেল সংগ্রহের সময়তো এখনই। এই ভাবে চরকির মধ্যে সরিষা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে কলুর বলদ এই ঘানি টেনে নিয়ে বেড়ায়। বারং বার সরিষা পিষে ফোঁটা ফোঁটা খাটি সরিষার তেল সংগ্রহ করা হয়। যা ১০০% খাঁটি ঘানির তেল। বড়ই ফলদায়ক। ভেজাল তেলের বাজারে খাঁটি ঘানির তেল পাওয়া অতিভ কষ্টকর। কলুর বলদের কষ্টের ফসল ফোঁটা ফোঁটা ঘানির তেল বহু রোগের ঔষধ, অল্পতেই অনেক কার্যকরী। এটা আমাদেরকে এই শিক্ষা দেয় যে কষ্টের ফসল সামান্যতেই অনেক যা ভেজালে পাওয়া প্রায় অসন্ভব

/

---

আগের যুগের খড়ম আপনাদের কি মনে পড়ে ঘরে নিজেরা পাদুকা হিসাব ব্যবহার করতো এবং মেহমান আসলে পা ধোয়ার জন্য দিত। এখন সোনারগাঁ এর যাদুঘরে আাছে

/

---

একসময়ে এইদেশের জনগনের একমাত্র যান্ত্রিক বাহন ছিল এই বাস।। ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড কোম্পানীর তৈরী এইবাস চালু করতে লাগতো একধরনেরহ্যান্ডেল বাসের হেলপার হ্যান্ডেল দিয়ে ইঞ্জিনের সামনে বিশেষস্থানে লাগিয়ে প্রথমে আস্তে আস্তে করে ঘুরিয়ে পরে ঘুরানোর গতি বাড়িয়ে একসময় খুব জোরে ঘুরিয়ে এই বাসের ইঞ্জিন চালু করতো, যা এখন পুরাই ইতিহাস

/

---

মহান আল্লাহ্- অশেষ নেয়ামত, শীতকালে খেজুর গাছের সুস্বাদু এবং সুমিষ্ট রস কার না ভালো লাগে

/

---

একসময় মাটিতে এভাবে কিছু বিছনাপাটি বিছিয়ে কলাপাতায় করে খাওয়া হতো বিভিন্ন দাওয়াতে বর্তমান যুগে যা একেবারে বিলুপ্ত

/

---

গ্রামের গৃহিনীরা ঢেঁকি দিয়ে আতপ চাউলের গুড়া তৈরী করছেন শীতের পিঠা বানানোর জন্য

/

---

যুগের অত্যাধুনিকতার সাথে সাথে অনেক কিছুই ইতিহাস হয়ে যায়। কৃষক আঁউস এবং আমন ধান কেটে এনে বাড়ী উঠানে (আংগিনায়) এভাবে গরু দিয়ে মাড়াই করে ধানগাছ থেকে ধান ছাটাই করতো, আর এইকাজে সহযোগিতা করতো কৃষাণীরা পরিবারের ছোট বড় সবাই, সবার মাঝে ছিলো আনন্দ আর উদ্দিপনা যা আজ অতীত হয়ে গেছে

/

---

কতই না সুন্দর এই আমার প্রিয় জন্মভূমি,
রূপ দেখে তোর কেন আমার নয়ন জুরায় না,
তোরে এতো ভালোবাসি তবু পরাণ ভরে না।

/

---

মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম সহজ করার জন্য একসময় গরুকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হতো, যেমন : গরু দিয়ে হালচাষ, গরু দিয়ে গাড়ী চালানো গরু দিয়ে মাড়াই করে ধান গাছ থেকে ধান বিছিন্ন করা, গরু দিয়ে সরিষার তেলের ঘানি চালানোসহ আরো অনেক কাজে গরুকে ব্যবহার করা হতো আর এই কাজগুলো করানোর সময় গরু যাতে খাদ্য গ্রহন থেকে বিরত থাকে, তার জন্য বাঁশের চটি দিয়ে তৈরী একধরনের প্রতিবন্ধকতা গরুর মুখে বেঁধে দেওয়া হত। নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় এই প্রতিবন্ধকতাটির নাম হলোকাঁইর স্থানভেদে হয়ত এর আরও নাম থাকতে পারে এই কাঁইর মুখে লাগিয়ে হালচাষের দৃশ্য আমরা এই ছবিতে দেখতে পাচ্ছি

/

---

আমন মৌসুমগ্রাম বাংলায় উৎসবের আমেজ, চাষীর মুখে হাসি, ধান কাটা ধান মাড়াই ধান সিদ্ধ, নিয়ে মহা ব্যস্ত সময়ের বাংলা। সামনেই শীত, পিঠা পাবনের উৎসব, বাড়ী বাড়ী অতিথির পদচারনায় মুখরিত হবে বাংলা। সে এক ভিন্ন রূপ, অপরূপ। এইতো বাংলার রূপ

/

---

পানি সেচ, যা ইরি ধানের সব চেয়ে বেশী প্রয়োজন। সেচের পানি পরিমান মত সর্বত্র পৌঁছানোর জন্য এভাবেই তৈরী হয় ড্রেন বা নালা। ইরি বড় কষ্টের ফসল, অর্থ শ্রম দুটোই বিনিয়োগ করে এই ফসল ঘরে তোলা হয়। পূরো বাংলা এখন ব্যস্ত ইরি লালনে, সবুজে শ্যামলে ভরবে মাঠ সাজবে বাংলা নতুন সাজে!!

/

---

নোয়াখালীর ভাষায় দোন। অন্য এলাকায় হয়তো অন্য নামে চেনে। ইরি ধানের শুরুতে যার আগমন, বলতে গেলে ইরি ধানকে বাচিয়ে রেখেছিল এই দোনের পানি। আজ ইরি ধান বিভিন্ন নামে বিকশিত, আমাদের খাদ্য অভাব ইরি ধানই মিটায়। কিন্তু হারিয়ে গেল এই দোন গভীর অগভীর নলকূপের মেলায়। এখন দোন শুধুই স্মৃতি। নতুনেরা হয়ত দেখেনি, তাদেরকে পরিচয় করানোর জন্য এই প্রয়াস

/

---

জাঁতাকষ্টের আরেক নাম। ডাল ভাংগার প্রাচীনতম পদ্ধতি। পাথরের দুপাটার মাঝে ডাল দিয়ে প্রচন্ড শক্তির সাথে উপরের অংশটি ঘুরাতে হয়। যুগ যুগ ধরে সংসারের অন্যান্য পরিশ্রমী কাজ গুলোর পাশাপাশি এই অমানুবিক জাঁতা ঘুরানোর কাজটি করে আসছিল বাংলার মা দাদীরা। একটু ভাবলে সত্যেই অবাক হতে হয়, ধান ঢেঁকি রান্না বাচ্চা সামলিয়ে কর্তাকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি জাঁতা ঘুরানোর মত শক্তি তাঁরা পেতো কোথায়!! এত কিছুর পরও ছিল না োন অভিযোগ, ঝগড়া, কাজের ভয়ে বাপের বাড়ী পালিয়ে যাওয়া কিংবা তালাকের মত আত্নঘাতী কোন সিদ্ধান্ত। আধুনিক মা বোনদের কাছ থেকে হয়ত আমরা তা পাই না, আশাও করি না। শুধু এই টুকু চাই এই পরিশ্রমী মা দাদীদেরকে শ্রদ্ধা জানায়ে, তাদের মাঝে আজও যারা বেচে আছে, তাদেরকে অবহেলা না করে একটু যত্ন নিই। তাদেরকে বৃদ্ধা আশ্রমে না পাঠিয়ে নিজের কাছে রেখে সেবা যত্ন করি। তবেই যদি কিছুটা সাপমোচন হয়

/

---

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরুর গাড়ী ! আজকাল বিলুপ্তপ্রায় - খুব কমই চোখে পড়ে !

/

---

ইরি মৌসুম! ব্যস্ত কৃষক জমি তৈরীতে। আগাছা মুক্ত করে জমি সমান করা, যেন সেচের পানি সমান ভাবে সব জায়গায় পৌছায়। তাদের এই কষ্টের, অক্লান্ত শ্রমের ফসল আসবে, সবুজে সোনালীতে চোখ জুড়াবে। বাংলা সাজবে নব সাজে!! ফুটবে হাসি কৃষান কূলে!

/

---

বীচন তোলা।ছেলে বেলার উপার্জনের এক মাত্র বৈধ প্রন্থা। এই কাজটিতে পরিবারের বড়রা (পূরুষেরা) একে বারেই আনাড়ি, মহিলাদের সময় কোথায়! তাই এই কাজটি করার ভার এসে পড়ে ছোটদের হাতে। উপার্জনের এই সুযোগ ছাড়ে কে!! তাই সুবিধা মত দাম হাকানো হয়, প্রতি আঁটি .২৫ পয়সা চার আঁটি .০০ টাকা। বড়রা দিতে বাধ্য, নয়ত রোপার জমিন শুকিয়ে যাবে। খেলার মাঝ থেকে সময় বের করে শুরু হয় উপার্জন। কে কত আঁটি তুললো তার প্রতিযোগীতা। সারা বিকেল বীচন তুলে সন্ধ্যায় বড়দের কাছ থেকে / টাকা পেয়ে যে আনন্দ পেয়েছি, আজ বড় হয়ে মোটা টাকা হাতে পেয়েও খুঁজে পাই না সেই / টাকার চরম আনন্দ পরম তৃপ্তি!! আজ স্মৃতি শুধু টেনে নিয়ে যায় অতীতে, উপার্জনস্হল বীচন তলাতে

/

---

পালকিগ্রাম বাংলার আভিজাত্যের প্রতীক। আজ হারিয়ে গেছে কালের গহ্বরে। ৭০ এর দশকের প্রথম দিকে কিছু পালকি ছিল যা আমরা ছোট বেলায় দেখেছি, তবে এতে উঠার সুযোগ হয়নি, এমনিতে খেলার ছলে উঠে বসে আবার নেমেছি, বেহারা কাঁধে নিয়ে বেড়ায়নি। কারন বয়স পালকিতে উঠার বয়স ছিল না, পালকিতে উঠতো বয়স্ক লোক, মহিলা এবং বর কনে। এর কোনটাই ছিলাম না, তবে পালকির পিছে পিছে বহু দৌড়েছি, বেহারা পালকিতে কনে নিয়ে বরের বাড়ীর ঘর ঘরের দরজায় দাড়িঁয়ে গান গাইতো বকশিসের জন্য, আর সবাই মিলে পালকির ভিতর নতূন বৌ দেখার অপেক্খা, সে এক বিচিত্র আনন্দ, পূলকিত অনুভূতি, আজ আর কোন কিছুতেই তা খুজে পাই না। আজ পার্লারে গিয়ে, মেকাপে সেজে, নকল চেহারা নিয়ে দামী গাড়ীতে করে নতুন বৌ আসে ঠিকেই কিন্তু পালকির সেই সরলা সহজ নব বধুর খাটি সৌন্দর্য্য কিংবা আমাদের সেই বধু দেখার আনন্দ কোনটাই আজ আর নেই। আভিজাত্যের প্রতীক পালকির সাথে সব হারিয়ে গেছে। পালকি এখন শুধুই স্মৃতি

/

---

বায়োস্কোপ : যখন টিভি ছিলোনা তখন বায়োস্কোপই ছিল বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম। যাএখন জাদুঘরে।

এমন আরো অনেক গ্রাম্য ঐতিহ্য আছে যা এখন হারিয়ে গেছে বালের গর্ভে।

-সংগৃহিত

-আর আই/বিএস





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)