শিরোনাম:
ভোলা, রবিবার, ১ আগস্ট ২০২১, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮

ভোলার সংবাদ
বৃহস্পতিবার ● ৫ এপ্রিল ২০১৮
প্রথম পাতা » কৃষি » ভোলায় তরমুজের বাম্পার ফলন তিনগুণ কমেছে আবাদ
প্রথম পাতা » কৃষি » ভোলায় তরমুজের বাম্পার ফলন তিনগুণ কমেছে আবাদ
২৮৩ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ৫ এপ্রিল ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ভোলায় তরমুজের বাম্পার ফলন তিনগুণ কমেছে আবাদ

---
ফরহাদ হোসেন: ভোলায় তরমুজ চাষে এবারো বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবছর ফসলি আবাদ কমেছে তিনগুণ। বাজার দামও রয়েছে অনেকটা চাওড়া।   অপরদিকে এবছর কৃষি অফিস থেকে তেমন কোন সহযোগীতা ও পরামর্শ না পাওয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।
পূর্ব সূত্র ও জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর ভোলা জেলার ৭ উপজেলায় ১২ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হলেও এবছর চাষ হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১শ ৬০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এবছর ৯ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে কম চাষ হয়েছে।
এর মধ্যে ভোলায় তরমুজ চাষের জন্য বিখ্যাত এলাকা চরফ্যাশন উপজেলায় গত বছর ১১ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হলেও এবছর সেখানে মাত্র ২ হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে। চাষ কমে দাড়িয়েছে ৮ হাজার ৫ শত ২০ হেক্টরে। ভোলা সদর উপজেলায় গত বছর চাষ হয়েছিল ৮শ ৭০ হেক্টর আর এবছর ২৫০ হেক্টর কমেছে ৬২০ হেক্টর, দৌলতখান উপজেলায় গত বছর চাষ হয়েছিল ১শ ৩০ হেক্টর এবছর কমেছে ৮০ হেক্টর, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় গত বছর ১৪০ হেক্টর এবছর কমেছে ৪৫ হেক্টর, তজুমদ্দিন উপজেলায় গত বছরছিল ৮০ হেক্টর এবছর কমেছে ৬৫ হেক্টর, লালমোহন উপজেলায় গত বছর ২৫০ হেক্টর চাষ হলেও এবছরও ২৫০ হেক্টরে রয়েছে। এছাড়া মনপুরা উপজেলায় গত বছর ১০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হলেও এবছর কোন তরমুজ চাষ হয়নী। এসকল তথ্য গত বছরের পরিসংখ্যান ও এবছরের হিসাব ভোলা কৃষি অফিস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
কৃষকদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, ভোলায় এবছর আবহাওয়ার পরিবেশ কিছুটা অনুকুলে থাকায় জেলার বিভিন্ন স্থানে তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুল পরিবেশ ও বৃষ্টিপাত না হলে সঠিক ন্যাযমূল্য পেলে অনেকটা লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ চাষীরা।
চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনগঞ্জের তরমুজ চাষী মুনছুর মিয়া ভোলার সংবাদ ডট কমকে বলেন, তিনি গত বছর ৩০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। মৌসমের শেষের দিকে বৃষ্টিপাত হওয়ায় কোন রকম চালন দিনে ঘরে এসেছেন। তাই এবছর ১০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। ফলন ও ভালো হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনা এবছর তরমুজের চাহিদাও রয়েছে। সঠিক ন্যাযমূল্য পেলে কৃষকরা লাভবান হবেন।
দুলারহাট থানার মজিবনগরের মনির হাওলাদার বলেন, তিনি এ বছর ১২ একর জমিতে তরমুজ করেছেন। ফলন ও ভালো হয়েছে। তিনি প্রথম তোলায় ৫ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। তার প্রতি একরে জমি লগ্নি সহ প্রায় ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে মৌসুম শেষ পর্যন্ত প্রতি একরে তিনি দেড় থেকে ২ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা প্রকাশ করেছেন।
নিলকমল ইউনিয়নের ঘোষারহাট এলাকার তরমুজ চাষী জাহাঙ্গির  মিয়া বলেন, তিনি প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ১০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তরমুজ একটি সোখিন ফল। বিভিন্ন সময় নানান রোগে আক্রমন করে থাকে। এ এলাকার অধিকাংশ মানুষ তরমুজ চাষের সাথে জড়িত। এবছর কৃষি অফিস থেকে তাদেরকে কোন প্রকার সহযোগীতা ও পরামর্শ না দেয়ায় অনেকটা ফলন ও আবাদ কম হয়েছে।
চারা রোপন থেকে ফলন আসা পর্যন্ত ৯০ দিন সময়ের মধ্যে এখানকার কৃষকদের কাছে কোন কৃষি আফিসার আসেননি বলেও অভিযোগ করেন অনেকে।
লালমোহনের পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কচুয়ার চরের তরমুজ চাষী ফরুক মিয়া বলেন, তিনি এবছর ৬ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছে। ফলনও ভালো হয়েছে। তিনি প্রথম কাটায় ৩ লক্ষ টাকার তরমুজ ঢাকা পাঠিয়েছেন। বৃষ্টিপাত না হলে তিনি আরো ৩ কাটা দিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। এবরছ তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও কোন সহযোগীতা পাননি বলেও আভিযোগ করেন তিনি।
ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের তরমুজ চাষী আলমগীর মিয়া বলেন, ফলন ভালো হয়েছে। প্রথমে সিজনে বাজারে তরমুজ এনে ভালোই দাম পেলেও পর্যায়ক্রমে তরমুজের চাপ বাড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকাররা না আসলে ন্যাযমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন কৃষকরা।
ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক মৃত্যুঞ্জয় ভোলার সংবাদ ডট কমকে বলেন, ভোলা জেলায় এবছর ৩ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। মৌসমের প্রথম দিকে আবহাওয়ার পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় চাষের আবাদ অনেকটা কমেছে। এবছর প্রতি হেক্টর জমিতে ৪৮ মেট্রিক টন হারে তরমুজ উৎপাদন হয়েছে বলে তিনি ধারণা করেন। কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে সহযোগীতা ও পরামর্শর বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কোন উপ-সহকারী যদি তার দায়িত্বে কোন অবহেলা করে থাকে তা হলে লিখিত অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

-এফএইচ





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)