শিরোনাম:
●   উদ্ভাস-উন্মেষ-উত্তরণ এখন দ্বীপ জেলা ভোলায় ●   ভোলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ’লীগের সমর্থিত প্রার্থী বশীর উল্লাহ সভাপতি, সম্পাদক মাহাবুবুল হক লিটু নির্বাচিত ●   ভোলা জেলা প্রশাসকের সাথে আইনজীবী সমিতির মতবিনিময় ●   চরফ্যাশনে দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়লো চট্টগ্রামগামী বাস ●   ডয়েসে ভ্যালী ও জাতীয় গণমাধ্যম ইনিস্টিটিউটের যৌথ আয়োজনে প্রিন্ট পত্রিকার সম্পাদকদের কর্মশালা সম্পন্ন ●   ভোলায় চারটি সহ সারাদেশে ১৫০ সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ●   ভোলায় ৩৩৫ কোটি টাকার শহর রক্ষা বাঁধ এখন মরণ ফাঁদ! ●   ভোলায় জমি দখলের খবর পেয়ে স্ট্রোক করে মারা গেলেন প্রবাসী ●   ভোলার নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে আইনজীবী সমিতির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ●   আজ ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মোঃ হাবিবউল্লাহ’র ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী
ভোলা, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

ভোলার সংবাদ
সোমবার ● ১১ জুন ২০১৮
প্রথম পাতা » ধর্ম » যে শিক্ষা রেখে যাচ্ছে মাহে রমযান
প্রথম পাতা » ধর্ম » যে শিক্ষা রেখে যাচ্ছে মাহে রমযান
৭৪০ বার পঠিত
সোমবার ● ১১ জুন ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

যে শিক্ষা রেখে যাচ্ছে মাহে রমযান

---

 

ডেস্ক: মাহে রমযান একটি ঈমানী পাঠশালা, সারা বছরের পাথেয় উপার্জন, সারা জীবনের মাকসাদকে শানিত করার জন্যে এটি একটি রুহানি ময়দান। যে ব্যক্তি মাহে রমযানে নিজেকে সংশোধন করতে পারল না সে আর কখন নিজের জীবন গঠন করবে ?

মাহে রমযানই এমন একটি প্রতিষ্ঠান যাতে আমরা নিজেদের আমল, শরিয়ত পরিপন্থী আচার ব্যবহার পরিত্যাগ ও চরিত্র সংশোধন করে নিতে পারি। আজ মুসলিম উম্মাহ সারা পৃথিবীতে তাদের কৃতকর্মের কারণে লাঞ্চিত, বঞ্চিত। প্রতিটি সুস্থ বোধসম্পন্ন মুসলিম এ অবস্থার পরিবর্তন চায়। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলা বলেন- إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ

নিশ্চয়ই আল্লাহ ওই পর্যন্ত কোনো জাতির পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদেরকে পরিবর্তন করে নেয়। (সূরা রা’দ: ১১)

যদি আপনি সত্যিকার অর্থে রমযান পেয়ে লাভবান হয়ে থাকেন আর মুত্তাকিদের গুণাবলী অর্জন করে রোযা, তারাবির নামায সম্পাদন করে থাকেন, তাহলে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করুন। তার শোকরুন আদায় করুন এবং তার কাছে মৃত্যু পর্যন্ত অটল থাকার তাওফীক কামনা করুন।

আপনি ওই নারীর মত হবেন না, যে নাকি সুতা দিয়ে সুন্দর করে সোয়েটার বুনল, যখন তা তাকে আকৃষ্ট করল, তখন একটি একটি করে সুতা খুলে ফেলতে লাগল। মানুষ তার সম্পর্কে কী মন্তব্য করবে? রমযান শেষে যে পুনরায় গুনাহের দিকে ফিরে গিয়ে নেক আমল ছেড়ে দেয়, তার অবস্থাতো ওই নারীর মতই। আনুগত্য ও মুনাজাতের স্বাদ পাওয়ার পরেও পুনরায় গুনাহ ও অপরাধের দিকে কীভাবে ফিরে যায়? সুহৃদয় পাঠক বর্গ! আমরা রমযানে আল্লাহর সাথে যে ওয়াদা করেছি, দুঃখজনকভাবে রমযানের পরপরই তা ভঙ্গ করার অনেক চিত্র সমাজে ফুটে ওঠে। যেমন :

১। ঈদের দিনেই জামাতে নামায আদায় ছেড়ে দেয়া। তারাবির মত সুন্নত নামাযে মসজিদ ভরা মুসল্লি থাকার পর এখন ফরয নামাযের সময়ই মুসল্লির সংখ্যা খুব কমে যাওয়া।

২। গান-বাদ্য ও সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাওয়া।

৩। বেহায়া ও বেলেল্লাপনার সাথে হাট-বাজারে ও পার্কে ছেলে- মেয়েদের সহাবস্থান-ইত্যাদি।

তাহলে কি এভাবেই আমরা মাহে রমযানকে বিদায় জানাব ?

এত বড় নেয়ামতের এটাই কি শোকর আদায়, এটাই কি আমল কবুল হওয়ার নিদর্শন ? নিশ্চয়ই নয়। বরং এটা আমল কবুল না হওয়ার আলামত। কেননা প্রকৃত রোযাদার ঈদের দিন রোযা ছেড়ে দিয়ে আনন্দিত হবে এবং রোযা পূর্ণ করার তাওফীক পাওয়ার দরুন তার প্রতিপালকের প্রশংসা করবে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। সাথে সাথে এই ভয়ে কাঁদবে যে, না জানি আমার রোযা কবুল হয়নি। আমাদের পূর্বসূরীগণ মাহে রমযানের পর ছয় মাস পর্যন্ত আল্লাহর দরবারে কেঁদে কেঁদে রোযা কবুল হওয়ার দোয়া করতেন।

আমল কবুল হওয়ার আলামত হল, পূর্ববর্তী অবস্থার চেয়ে বর্তমান অবস্থা উন্নত হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন- وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ

মৃত্যু পর্যন্ত আপনার রবের ইবাদত করুন। (সূরা হিজর: ৯৯)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :“বলো, বিশ্বাস স্থাপন করলাম আল্লাহর প্রতি, এবং অবিচল থাক।” (মুসলিম)

সত্যিকার মুমিন বান্দা সর্বদাই আল্লাহর ইবাদত করবে। কোন নির্দিষ্ট মাস, জায়গা অথবা জাতির সাথে মিলে আমল করবে না, বরং সর্বদা সে এবাদত করবে। মুমিন বান্দা মনে করবে যিনি রমযানের প্রভু তিনি অন্যান্য সকল মাসেরও প্রভু। তিনি সকল কাল ও স্থানের প্রভু। রমযান শেষ হয়ে গেলেও শাওয়ালের ছয় রোযা, আশুরা, আরাফা, সোমবার, বৃহস্পতিবার ইত্যাদি অনেক নফল রোযা রয়েছে। তারাবীহের নামায শেষ হয়ে গেলেও তাহাজ্জুদ নামায বাকি আছে সারা বছর। অতএব নেক আমল সব সময় সব জায়গাতেই করা যায়। হে ভাই! আপনি নেক আমলের চেষ্টা করতে থাকুন। অলসতা করবেন না। যদি আপনি নফল আদায় করতে না চান, তাহলে কমপক্ষে ফরয ওয়াজিব ছেড়ে দেবেন না। পাঁচ ওয়াক্ত নামায অন্তত জামাতের সাথে আদায় করুন এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকুন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীনের উপর অটল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন!





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

© 2024 দ্বীপের সাথে ২৪ ঘণ্টা Bholar Sangbad, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।