শিরোনাম:
ভোলা, বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২৮

ভোলার সংবাদ
বৃহস্পতিবার ● ৯ মার্চ ২০১৭
প্রথম পাতা » জেলার খবর » সাংবাদিকতা করে সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিয়েছি - বোরহানউদ্দিনের প্রথম সাংবাদিক ওমর ফারুক তারেক
প্রথম পাতা » জেলার খবর » সাংবাদিকতা করে সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিয়েছি - বোরহানউদ্দিনের প্রথম সাংবাদিক ওমর ফারুক তারেক
১৮৪ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ৯ মার্চ ২০১৭
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সাংবাদিকতা করে সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিয়েছি - বোরহানউদ্দিনের প্রথম সাংবাদিক ওমর ফারুক তারেক

---

সাংবাদিকতা এবং সাংগঠনিক নেতৃত্ব এই দুটি বিষয় একসাথে খুব কম সাংবাদিকই করে থাকেন। ভোলা জেলায় অনেক সাংবাদিক থাকলেও সাংগঠনিক নের্তৃত্বে আছেন মাত্র অল্প কয়েকজন। আর ভোলার বোরহানউদ্দিনে যিনি একাধারে সাংবাদিকতা পেশায় থেকে সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলার প্রথম সাংবাদিক ওমর ফারুক তারেক। সাংবাদিকতা করে নয় তিনি সবার কাছে সবচেয়ে বেশী পরিচিত একজন সফল ও কর্মঠ সংগঠক হিসেবে। একাধারে তিনি এক যুগেরও বেশী সময় ধরে বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ভোলার ৭টি উপজেলার প্রথম সাংবাদিক, সিনিয়র সাংবাদিক ও প্রেস ক্লাব সমূহের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সম্পাদকের সাক্ষাতকার প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে ভোলার সংবাদ ডট কম। সম্প্রতি সদা হাস্যজ্জৌল এই মানুষটি মুখোমুখি হয়েছেন ভোলার সংবাদ ডট কম’র। জানিয়েছেন তার সাংবাদিকতা জীবনের ইতিবৃত্ত। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন ভোলার সংবাদ ডট কম এর প্রধান সম্পাদক আরিফুল ইসলাম রিয়াজ সহযোগীতায় ছিলেন ভোলার সংবাদ ডট কম এর সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন। 

ভোলার সংবাদঃ- ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ছোট চর মানিকা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার প্রথম সাংবাদিক ওমর ফারুক তারেক। তার জন্ম ১৯৫৯ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী। বাবা মৃত আলহাজ্ব আবদুল হামিদ ও মা মোসাম্মৎ ছলেমা খাতুন। ৫ ভাই ৬ বোনের মধ্যে ৩য় ওমর ফারুক তারেক। শৈশব কেটেছে বোরহানউদ্দিনেই। ছোট বেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি জোক ছিল তার। কিন্তু কখনো ভাবেননি বোরহানউদ্দিন উপজেলার প্রথম সাংবাদিক হবেন।

বোরহানউদ্দিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাইমারী পড়া শেষ করে ভর্তি হন বোরহানউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। ১৯৭৪ সালে এই বিদ্যালয় থেকেই এসএসসি পাশ করেন তিনি। এরপর ১৯৭৬ সালে ঢাকা থেকে পাশ করেন এইচএসসি। ১৯৭৯ সালে ঢাকা আইডিয়াল কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন ওমর ফারুক তারেক। পড়াশুনা শেষ করে কর্মজীবনে পা দেন তিনি। বক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। স্ত্রী মোসাম্মৎ ফেরদৌসী বেগম পেশায় শিক্ষিকা। পেশাগত জীবনে ২০১০ সালে মোসাম্মৎ ফেরদৌসী বেগম  জেলায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে মনোনীত হন এবং ২০১৫ সালে শিক্ষা সফরে তিনি শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন। ১ মেয়ে ২ ছেলের জনক সাংবাদিক ওমর ফারুক তারেক। মেয়ে মহসিনা শারমিন নিশাত টিভি সংবাদ উপস্থাপিকা এবং OXFORD INTERNATIONAL SCHOOL AND COLLEGE এর শিক্ষিকা। নিন্মে তার সাক্ষাতকারটি তুলে ধরা হলো-

ভোলার সংবাদঃ-
কেমন আছেন?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি।

ভোলার সংবাদঃ-
আমরা জানি আপনি বোরহানউদ্দিন উপজেলায় প্রথম সাংবাদিকতা শুরু করেছেন। আপনার সাংবাদিকতার শুরু কিভাবে?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
লেখালেখির প্রতি আগ্রহ ছোট বেলা থেকেই ছিল আমার। পড়াশুনা করা অবস্থায় ঢাকায় এক বন্ধুর অনুপ্রেরণায় ১৯৮১ সালে প্রথম সাপ্তাহিক নব জয়ন্তীতে সাংবাদিকতা শুরু করি। এরপর পড়াশুনা শেষে চলে আসি বোরহানউদ্দিনে। তারপর শুরু হয় নতুন পথচলা। এখন এখানেই সাংবাদিকতা করছি।

ভোলার সংবাদঃ-
কোন কোন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
১৯৮১ সালে ঢাকায় প্রথম সাপ্তাহিক নব জয়ন্তীতে সাংবাদিকতার শুরু। এরপর বোরহানউদ্দিনে কাজ শুরু করি ভোলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলার কন্ঠ পত্রিকায়। এছাড়া ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের কাগজে উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি ২০০৩ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে ভোলা থেকে প্রকাশিত ভোলা বাণীর রিপোর্টার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করি।

ভোলার সংবাদঃ-
আপনার কর্মজীবনের শুরু কিভাবে?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
১৯৮০ সালে প্রথমে বোরহানউদ্দিনে ব্যবসা শুরু করার মাধ্যমে কর্মজীবনে পদার্পণ। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত বোরহানউদ্দিনে ফার্মেসীর ব্যবসা করি। এরপর ১৯৯৯ সাল থেকে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্সে জেলা সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।

ভোলার সংবাদঃ-
৭০ এর বন্যায় কি দেখলেন?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
তখন আমি ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি। বন্যার সময় বাবা মা আমাকে বাঁচিয়েছেন। বন্যার পর আমি দৌলতখানে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, এখানে সেখানে মৃত দেহ পড়ে আছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মেঘনা পাড়ের মানুষ। লাশের মিছিল দেখে হতবম্ভ হয়ে গেলাম। যা এখনো মনে হলে আতকে উঠি।

ভোলার সংবাদঃ-
৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে কি দেখেছেন আপনি?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
সপ্তম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো। বয়স কম থাকার কারনে বাবা মা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি। আমাদের বাড়ির কাচারি ঘর ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাটি। তাদের সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখতাম। মুক্তিযোদ্ধাদের কাজে সহযোগীতা করতাম। খাবার, পানি এনে দিতাম।

---

ভোলার সংবাদঃ-
সাংবাদিকতা করতে গিয়ে কোন অভিজ্ঞতা মনে আছে কি?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
হ্যা আছে। সৎ ও নিরপেক্ষ সংবাদ করতে গিয়ে আমার স্ত্রীকে ২বার বদলি করা হয়েছে। শিক্ষা অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির রিপোর্ট ছাপানোর ফলে তাকে বদলী করা হয়। এছাড়া ১৯৯৫ সালে দেউলায় নারী নির্যাতনের এক ঘটনা ঘটে। সেখানে সরোজমিনে গিয়ে রিপোর্ট তৈরী করি। সংবাদটি ছাপা হলে আন্দোলনের ঝড় উঠে। দোষীদের শাস্তির দাবীতে একাত্বতা প্রকাশ করেন সবাই। পরে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হয়।

ভোলার সংবাদঃ-
আপনি কিভাবে বোরহানউদ্দিন প্রেসক্লাবের সাথে যুক্ত হয়েছেন?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
প্রথমে ভোলা প্রেস ক্লাব গঠিত হয়। এরপর প্রেস ক্লাব যখন উপজেলা ভিত্তিক যাত্রা শুরু করে তখন আমি ও কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক মিলে বোরহানউদ্দিন প্রেস ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্ত নেই। প্রেস ক্লাব গঠন করা হলে এর সাথে যুক্ত হই।

ভোলার সংবাদঃ-
বোরহানউদ্দিন প্রেস ক্লাব কত সালে গঠন করলেন?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
১৯৮৪ সালে বোরহানউদ্দিন প্রেসক্লাব গঠিত হয়। বাজারের ডাঃ মানিক মিয়ার ঘরে প্রথমে কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ভোলার সংবাদঃ-
বোরহানউদ্দিন প্রেস ক্লাবের প্রথম সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে ছিলেন?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
সভাপতি এ বি এম সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কান্তিলাল গাঙ্গুলি।

ভোলার সংবাদঃ-
বোরহানউদ্দিন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সংখ্যা কত ছিল?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
মাত্র ৬জন সদস্য নিয়ে বোরহানউদ্দিন প্রেস ক্লাব গঠিত হয়।

ভোলার সংবাদঃ-
আপনি প্রেস ক্লাবের কি দায়িত্ব পালন করেছেন?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
আমি বোরহানউদ্দিন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন কোষাধক্ষ্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করি। এরপর প্রায় এক যুগ ধরে সফলতা ও নিষ্ঠার সাথে সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি।

ভোলার সংবাদঃ-
সাংবাদিকতা করে কি পেলেন?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
সাংবাদিকতা করে যা পেয়েছি তার চাইতে বেশী পেয়েছি প্রেস ক্লাবের সাথে যুক্ত হয়ে। সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিতে পেরেছি। সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছি। এটাই আমার সবচাইতে বড় পাওয়া।

ভোলার সংবাদঃ-
বোরহানউদ্দিনের প্রথম সাংবাদিক হিসেবে আপনার অনুভূতি কি?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
এ এক অন্য রকম পাওয়া। সবাইতো বিভিন্ন সেক্টরে প্রথম হয়। আমি বোরহানউদ্দিনে প্রথম সাংবাদিকতা শুরু করি। এতে আমি গর্বিত।

ভোলার সংবাদঃ-
সাংবাদিকতা করে কোন সম্মাননা পেয়েছেন কি?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
সংবাদিকতার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা পেয়েছি। এছাড়া ২০১৭ সালে বোরহানউদ্দিন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট পেয়েছি।

ভোলার সংবাদঃ-
অবসরে কি করেন?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
অবসরে ফিচার লেখি। বই অথবা পত্রিকা পড়ি।

ভোলার সংবাদঃ-
নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকরা কেমন করছে?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকরা আমাদের থেকে অনেক ফাস্ট। যে কোন সংবাদ তারা এখন সহজেই পত্রিকা অফিসে পাঠাতে পারে। তারা উদ্যমী ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করছে। উপজেলা পর্যায়ে যারা সাংবাদিকতা করছে তাদের সামঞ্জস্যপূর্ণ কোন বেতন ভাতা নেই। আর এ কারনে সবাই ভিন্ন ভিন্ন পেশার সাথে জড়িত। বর্তমানে বোরহানউদ্দিনের সাংবাদিকরা তিন ভাগে বিভক্ত। যা কারো কাম্য নয়। আমি চাই সবাই এক সাথে এক হয়ে কাজ করুক। লোভ হিংসা পরিহার করে দেশ ও সমাজের কাজ করে যাবে সাংবাদিকরা এটাই আমার প্রত্যাশা।

ভোলার সংবাদঃ-
বর্তমান যুগে অনলাইন গণমাধ্যমের ভুমিকা সম্পর্কে আপনি কি ভাবছেন?

ওমর ফারুক তারেকঃ-
এক কথায় বলবো যে কোন ঘটনা যখনি ঘটুক না কেন সবার আগে জানতে হলে অনলাইন পত্রিকার বিকল্প নেই। আর ভোলা জেলায় এ কাজটি করে যাচ্ছে ভোলার সংবাদ ডট কম। এর মাধ্যমে আমি যেকোন সংবাদ সবার আগে জানতে পারি। আমি ভোলার সংবাদ’র সাফল্য কামনা করি।

ভোলার সংবাদঃ-
আপনাকে অশংখ্য ধন্যবাদ।

ওমর ফারুক তারেকঃ-
আপনাকেও ধন্যবাদ।

-আরআই/বিএস





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)