শিরোনাম:
●   আবেদের নাম শুনেছি, কখনও দেখিনি : পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ●   লালমোহনে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীকে চড় মারলেন আ’লীগের সম্পাদক ●   ভোলায় রিমালের আঘাতে ঘরচাপায় নিহত ৩, আহত ১০, ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত, বেড়িবাঁধ ধ্বস প্লাবিত, অন্ধকারে জেলাবাসী ●   লালমোহনের ধলীগৌরনগর ইউপিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মাকসুদুর রহমান ●   লালমোহনে ডিএসবির এসআইকে পেটালেন শালিক প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা ●   ভোলায় তিন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইউনুছ, মনজুর আলম, জাফর উল্যাহ নির্বাচীত চেয়ারম্যান ●   ভোলার কর্ণফুলী-৩ লঞ্চে চাঁদপুরের মোহনায় অগ্নিকাণ্ড ●   উদ্ভাস-উন্মেষ-উত্তরণ এখন দ্বীপ জেলা ভোলায় ●   ভোলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ’লীগের সমর্থিত প্রার্থী বশীর উল্লাহ সভাপতি, সম্পাদক মাহাবুবুল হক লিটু নির্বাচিত ●   ভোলা জেলা প্রশাসকের সাথে আইনজীবী সমিতির মতবিনিময়
ভোলা, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১

ভোলার সংবাদ
রবিবার ● ১৭ মে ২০১৫
প্রথম পাতা » সম্পাদকীয় » সাংবাদিকতার অবক্ষয় ও আমার পথচলা
প্রথম পাতা » সম্পাদকীয় » সাংবাদিকতার অবক্ষয় ও আমার পথচলা
৭২৮ বার পঠিত
রবিবার ● ১৭ মে ২০১৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সাংবাদিকতার অবক্ষয় ও আমার পথচলা

মোকাম্মেল হক মিলন

॥ মোকাম্মেল হক মিলন ॥ সাংবাদিকতা এক মহৎ পেশা। এ পেশার মাধ্যমে মানুষের সেবা ও উপকার করা যায়। সমাজের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের উপকার করা সম্ভব। তেমনি দেশ ও জাতীর উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখাও সম্ভব। সে জন্য সাংবাদিকদের মর্যাদা সমাজে অনেক। একজন প্রকৃত সাংবাদিক দেশ ও দশের স্বার্থে দলমত নিবির্শেষে নিরপেক্ষ থেকে গঠনমূলক লেখনির মাধ্যমে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ করতে পারে। দেশের স্বাধীনতার ও একুশের চেতনা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সমালোচনা লিখে জাতিকে উন্নত মর্যাদা আসনে বসিয়েছে সাংবাদিকরা। সে সাংবাদিক সমাজ আজ মর্যাদা ভু-লন্ঠিত করছে কিছু সংখ্যক অসাংবাদিক আইডি কার্ড নিয়ে নানান অপকর্ম করে যাচ্ছে। বর্তমানে আইডি কার্ডধারী ঐ সব অসাংবাদিকরা রাজনৈতিক কর্মী, সন্ত্রাস কর্মকান্ডে জড়িত, মোবাইল/কম্পিউটার দোকানের অপারেটর, মাদক ও হোন্ডা চোরাচালানকারী বিভিন্ন ধরনের কর্মকান্ড থেকে রক্ষা পেতে মহান সাংবাদিকতা পেশার পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের এবং রাজনৈতিক উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে সমাজে সাংবাদিকতার সুনাম নষ্ট করছে আর ফায়দা লুটে নিচ্ছে। তারা (কার্ডধারী) অ-সাংবাদিকরা হোন্ডায় মহড়া দিয়ে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে গিয়ে অসহায়-নিরীহ মানুষকেও পর্যন্ত হুমকী দিয়ে অর্থ উপার্জন করছে, যা সাংবাদিকতার নৈতিকতা বিরোধী।
তাই সাংবাদিক নামধারী অসাংবাদিকদের অপকর্ম রুখতে এখনি সাংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া কর্মকর্তা ও প্রশাসনকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সরকার তথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগণ সুষ্ঠ নীতিমালা গ্রহণ করে নুন্যতম ¯œাতক পাশ ও দুই বছরের সাংবাদিকতা ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারীকে প্রেস কাউন্সিলএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করছি। নতুবা ভবিৎষতে সাংবাদিক সমাজকে কেউ আর সম্মান করবে না এবং অহরহ সাংবাদিকরা নানান শ্রেণীর কাছে মার খাবে, নিগ্রীহিত হবে। তাই দলমত নির্বিশেষে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সাংবাদিককতার অবক্ষয় রোধে মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষে পেশাগত সাংবাদিক তৈরী করে বেতন-ভাতা প্রদানসহ সাংবাদিকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
অপরদিকে সাংবাদিকতার মহান পেশার সম্মান দেখে ১৯৮৪ সালের মে মাসে বন্ধু নাসির আল মামুনের অনুপেরনায় সাপ্তাহিত ভোলা বাণীর সংবাদাতা হিসেবে সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেছি। সে সময় সাপ্তাহিক ভোলা বাণীর সম্পাদক মরহুম আবু সুফিয়ান বাহার, ফরিদ হোসেন বাবুল, আমির খসরু ভাইদের মতো সত্য, নির্ভিক, নিষ্ঠাবান মানুষের কাছ থেকে ¯েœহ, অনুপ্রেরণা আর সততার মধ্যমে মানুষের সেবা কারা যায়। সমাজে ভাল মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় বুঝতে পেড়েছি এবং সেই সব ভাল মানুষের কাছে থেকে আজো সাংবাদিকতার পেশায় থেকে অর্থ সংকটসহ পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছি। তবে মানষিক ভাবে অনেক ভালো আছি, যা ভাষায় বোঝাতে পারবো না।
১৯৮৪ সাল থেকে আজ ২০১৫ সাল পর্যন্ত যে সম্মান পেয়েছি আর মানুষের উপকার করতে পেরেছি, তা সত্যিই মনের মাঝে প্রশান্তি এনে দেয়। তবে হতাশা এখানে পেশাগত প্রকৃত সাংবাদিক তৈরী হচ্ছে না, তৈরী হচ্ছে হলুদ সাংবাদিক, চাঁদাবাজ ও নানান অপকর্মকরে পার পেয়ে যেতে পারে এমন সব সাংবাদিক নামধারী আইডি কার্ড প্রাপ্তরা। সাংবাদিক হলেই কি তারা জবাবদিহিতার উর্ধে এমন প্রশ্ন অনেকের ? এ অবক্ষয় রোধে প্রেস কাউন্সিল, সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদক ও ইলিট্রনিক্স মিডিয়ার কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এ প্রত্যাশা আমার।

অন্যদিকে সাপ্তাহিক ভোলা বাণীতে কাজ করার সময় অধ্যক্ষ এম. ফারুকুর রহমান, অধ্যক্ষ আফসার উদ্দিন বাবুল, মরহুম মোস্তাফা কামাল, মুহাম্মদ শওকাত হোসেন, আশরাফুল আলম মাসুম, এ এইচ এম বজলুর রহমান, বন্ধু হাবিবুর রহমান ছুট্টি, মিজানুর রহমান এবং এসময় আমিরুল ইসলাম বাছেত তজুমদ্দিন সংবাদাতা হিসেবে ও আব্দুল বারেক নান্নু ভোলা বাণীর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছিলেন। আজ তাদের কথা মনে পড়ে।
অপরদিকে ১৯৮৬ সালে ভোলা প্রেসক্লাবে সদস্যপদ লাভ করি, তখন অধ্যক্ষ এম. ফারুকুর রহমান, হাবিবুর রহমান, আবু তাহের, অধ্যক্ষ সেলিম চৌধুরী, ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা, সিদ্দিকুর রহমান, ডঃ সুনীল বরন হালদার, মরহুম ফরিদ হোসেন বাবুল, মরহুম আমির খসরু, মোক্তাদির বিল্লাহ্ বাচ্চু, মোঃ হুমায়ুন কবির, মরহুম মাহাবুবুল আলম, মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, মরহুম আব্দুর রহমান, কামাল উদ্দিন সুলতান, এইচ এম বজলুর রহমান এদের সাথে নবীণ সদস্য মোকাম্মেল হক মিলন, নাসির আল মামুন, জাকির হোসেন মহিন, আহাদ চৌধুরী তুহিন, হাবিবুর রহমান ছুট্টি, নুরনবী মনা, জহিরুল ইসলাম মঞ্জু, নাসির উদ্দিনসহ প্রবীণ-নবীণরা মিলে প্রেসক্লাব সরগম ছিল। এছাড়াও বরিশালস্থ দৈনিক প্রবাসী ও আজকের বার্তার সহকারী সম্পাদক মরহুম জি এম বাবর আলী, মোবারক আলী,মুরাদ আহমেদ, আজকের বার্তার লিটন বাশার সহ একঝাক সাংবাদিক নিয়মিত ভোলা প্রেসক্লাবে আসতেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ঘনিষ্টজন কবি মোখলেছুর রহমানের গুড়পট্টি নুর প্রেস এ সাপ্তাহিক লাল সূর্য পত্রিকার সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহ্ ও বন্ধু শাহ্ মতিন টিপুসহ আরো অনেকে সব সময় আড্ডা দিতেন। তারাও প্রেসক্লাবে আসতেন। এছাড়া আমি জাতিয় সাংবাদিক সংস্থার ভোলা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ভোলা রিপোটার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ভোলা প্রেসক্লাবে কোষাধক্ষ্য, নির্বাহী সদস্য, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলাম।
আজেকর প্রজন্মের সামস্-উল-আলম মিঠু এমএমসি’র মাধ্যমে ভোলায় সংবাদকর্মী তৈরী করতে ২০০১ সাল থেকে ৫টি ব্যাচে ২০ জন করে নারী-পুরুষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ছিলেন এবং প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নবীণ সংবাদকর্মী হামিদুর রহমান হাসিব, নাসির লিটন, জুন্ন রায়হান, নেয়ামত উল্যাহ্সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নবীণ সংবাদকর্মীদের আমাদের হাতে তুলে দেন। তারাই আজকে জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায়গুলোতে শুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
সেই থেকে ভোলা বাণী দিয়ে সাংবাদিকতার শুরু করে পরবর্তিকালে ১৯৮৫ সালে জাতীয় দৈনিক আজাদ, আঞ্চলিক দৈনিক প্রবাসিক, খুলনার পূর্বাঞ্চলসহ সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকায় কাজ করে আছিলাম। ১৯৮৮ সালে দৈনিক খবর এবং নতুন আঙ্গিকে দৈনিক জনকন্ঠ প্রকাশ হওয়ার পর থেকে ১৯৯৬ সালে জুন মাস পর্যন্ত জনকন্ঠে কাজ করেছিলাম। ভোলা প্রেসক্লাব নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে আমাকে জনকন্ঠ থেকে বাদ দেয়া হয়। তখন বন্ধু নজরুল হক অনু ও অমিতাভ রায় অপু জনকন্ঠে প্রতিনিধি হওয়ার জন্য সংবাদ পাঠানোর কাজ শুরু করে।
ইতিমধ্যে ১৯৯৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর ভোলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলার কন্ঠ পত্রিকায় প্রথমে স্টাফ রিপোর্টার, পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালের মার্চ মাসের প্রথম সাপ্তাহে বার্তা সম্পাদক মরহুম ফরিদ হোসেন বাবুল দৈনিক বাংলার কন্ঠ ছেড়ে যাওয়ার পর সম্পাদক হাবিবুর রহমান সাহেবের বিশেষ অনুরোধে দৈনিক বাংলার কন্ঠে’র প্রকাশনা নিয়মিত করন ও ভারপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব কাধে নেই। এসময় বন্ধু অমিতাভ রায় অপুসহ বিভিন্ন তরুণ সাংবাদিকদের নিয়ে বাংলার কন্ঠ পরিচালনা করেছি। তারপর বার্তা সম্পাদক হিসেবে বাংলার কন্ঠের সুখে-দুঃখে থেকে কাজ করেছি এবং বর্তমান প্রজন্মের অনেক সাংবাদিকদের সৃষ্টি করেছি।
যারা আজ ভোলা জেলা সদরসহ অনান্য উপজেলাগুলোতে সুনামের সাথে কাজ করছেন। এভাবেই দৈনিক জনকন্ঠের পর আবার দৈনিক খবর পত্রিকায় কাজ করি। এরপর বন্ধু আহাদ চৌধুরী তুহিনের সহযোগিতায় দৈনিক বাংলা বাজার পত্রিকায় কাজ করেছি এবং এই পত্রিকাটির মালিকানা পরিবর্তন হয়ে নতুন ভাবে বাংলাবাজার পত্রিকা বের হয়ে বছর দুই একের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পূনরায় দৈনিক খবর এবং বন্ধু শাহ্ মতিন টিপুর আহবানে দৈনিক কালবেলায় কাজ করছি।
বর্তমানে দৈনিক বাংলার কন্ঠ’র যুগ্ম সম্পাদক, দৈনিক শাহনামা’র ব্যুরো প্রধান, দৈনিক কালবেলা’র ভোলা প্রতিনিধি ও দৈনিক সংবাদ ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। তবে সাংবাদিকদের জন্য সরকারের ওয়েজবোর্ড ও নিতিমালার পত্রিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সঠিক সাংবাদিক সৃষ্টি না হওয়ায় বেশীর ভাগ পত্রিকা বেতন-ভাতাদি প্রদান করছেন না। ফলে যারা সাংবাদিক হিসাবে নিয়োগ পাচ্ছে তারা এটাকে অবৈধ ভাবে রুজি রোজগারের ধান্দায় ব্যবহার করছে।
শুধু তাই নয় বর্তমানে রাজনৈতিক সুপারিশে পত্রিকায়, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া সাংবাদিক নিয়োগ দেয়ায় প্রকৃত সাংবাদিকরা অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও মিডিয়ার মালিক, পত্রিকার সম্পাদকরা ও অসাংবাদিকদের আইডি কার্ড দিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে সাংবাদিকতার অবক্ষয় ঘটছে । এছাড়া সাংবাদিকতা মহান ও ঝুকি পূর্ণ পেশা। বিশেষ করে মফস্বল শহরে সাংবাদিক নামধারী অসাংবাদিকদের রুখতে এবং এ পেশা কলুষমুক্ত করতে হলে  প্রকৃত সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রেসক্লাব, রিপোর্টাস ইউনিটিতে দায়িত্ব থাকা সাংবাদিকদের ও ঐক্যবদ্ধ ভাবে ভুমিকা রাখা জরুরী।  এ থেকে উত্তরণে প্রকৃত পেশাগত সাংবাদিক নিয়োগ দেয়া ও সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড এর নীতিমালা অনুযায়ী বেতন ভাতাদি প্রদান  অত্যাবশ্যাক বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

© 2024 দ্বীপের সাথে ২৪ ঘণ্টা Bholar Sangbad, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।