শিরোনাম:
ভোলা, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৭ আষাঢ় ১৪২৮

ভোলার সংবাদ
শুক্রবার ● ১৫ জুলাই ২০১৬
প্রথম পাতা » জানা অজানা » ভূমিকম্প কাঁপিয়ে দেয়ার আগে এবং পরে…
প্রথম পাতা » জানা অজানা » ভূমিকম্প কাঁপিয়ে দেয়ার আগে এবং পরে…
৮৩ বার পঠিত
শুক্রবার ● ১৫ জুলাই ২০১৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ভূমিকম্প কাঁপিয়ে দেয়ার আগে এবং পরে…

---

   মোমিন মেহেদী:                     

      ভূমিকম্প কাঁপিয়ে দেবে

ঝাঁপিয়ে নেবে প্রাণ

এমন কথা শোনার পরই

মন করে আনচান

বাঁচার আশায় সতর্ক হই

সতর্ক হয় দেশটা

কিন্তু কেউ- করে না কো

ভালো হওয়ার চেষ্টা

আসুন সবাই ঘুরে দাঁড়াই

দুর্নীতিকেনা বলি

অন্যায় আর অপরাধের

রাস্তাতে আর না চলি

তাহলে ভাই মুক্তি পাবো যুক্তি দিলাম যুক্তি

করতে পারেন সততা আর সত্যের সাথে চুক্তি

 

মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ; সত্যি কথা বলতে গেলে বলতে হয় যে, যখন তখন নির্মম ভূমিকম্পে ধুলিস্যাৎ হতে পারে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজ-জামাত-জঙ্গী আর রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করে চলা লোভি-লাফাঙ্গাদের ক্ষমতায় আসা আর থাকার প্রতিযোগীতা কেননা, নতুন প্রজন্মের কোটি প্রতিনিধির চোখের সামনে নির্মমতার ইঁদুর বেড়াল খেলা যেন নিয়ম করে চলা একটা কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে কোন কিছুর দাম কমুক আর না কমুক কমেছে জীবনের দাম; বেড়েছে নেতা আর পাতি নেতাদের বেপরোয়া জীবনাচার বেড়েছে ছাত্র নেতাদের ব্যাংক ব্যালেন্স, বেড়েছে যুব নেতাদের গাড়ি-বাড়ি আর নারীর সংখ্যাও; পাশাপাশি সংখ্যায় অগনিত হয়েছে মন্ত্রী-এমপি আর আমলাদের মামলার সাথে সাথে তাদের দলিলগুলোও আর তাদের পাপের বোঝা বইতে বইতে ক্লান্ত পৃথিবীর ৬৫ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ সকল অন্যায়ের রাস্তা থেকে সরে আসার জন্যই হয়তো পথ হিসেবে বেছে নিচ্ছে এই মাত্রার ভূমিকম্পকে সে যাই হোক সকল লোক তো আর পাপি নয়; যারা পাপি তারা পথ বেছে নিক নিজের মত করে; যারা পাপের চেয়ে পূণ্য নিয়ে বেশি ভাবেন; তাদের উদ্যেশ্যে লিখছি এই লেখা আপনার হয় তো দেখে থাকবেন যে, যখনই ভূমিকম্প হয়; অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্থরাই থাকে ধনিদের তালিকায় তবুও মধ্যবিত্ত, নিন্মবিত্তদের ঝুঁকি থাকে এই ঝুঁকি থেকে কিছুটা হলেও মুক্তির লক্ষ্যে বলছি শুনুন- বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশ ভারত মিয়ানমারে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করছেন গবেষকরা বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র সিঙ্গাপুরের একদল গবেষকের ধরনের গবেষণার তথ্য নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে ইউনাইটেড নেশন ফর গ্রীণ পলিসি (ইউএনজিপি)’ গবেষণা সেল থেকে নেচার জিওসায়েন্স জার্নাল সেই গবেষণার বিষদ আলোচনা শেষে তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেছে যে, যখন তখন এই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটতে পারে বাংলাদেশে এমতবস্থায় আমাদেরকে শুধু সাবধান থাকলেই হবে না; নিবেদিত থাকতে হবে বাংলাদেশের মাটি মানুষের জন্য সবসময় যাতে করে কেউ কোনভাবেই অন্যায় আর অপরাধের রাস্তায় না এগিয়ে যায়

 

আমরা জানি যে, ২০০৪ সালে যে ফল্ট লাইনের ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামিতে লাখ ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, সেই একই ফল্ট লাইনে নতুন এই ভূমিকম্পের আশংকা দেখছেন গবেষকরা তাদের আশংকা, যেহেতু এখানে গত ৪০০ বছর ধরে শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে, ফলে তা যে কোনো সময় রিখটার স্কেলে মাত্রার মতো শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প তৈরি করতে পারে ইউএনজিপির বাংলাদেশ-এর কান্টি কনভেনর অধ্যাপক শুভঙ্কর দেবনাথ তাদের তথ্য নিয়ে আলোচনায় বলেছেন, তেমন ভূমিকম্প ঘটলে তা অঞ্চলের ১৪ কোটি মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে এখনই বাংলাদেশ বড় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠবে এমন কথা বলা না গেলেও দুটি গতিশীল ভূগাঠনিক প্লেট পরস্পরের ওপর চেপে বসতে থাকায় সেখানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের শক্তি জমা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনের ভাষ্য থেকে জানা গেছে পাশাপাশি আমাদেরকে কঠোরভাবে মনে রাখতে হবে যে, গবেষক দলের প্রধান নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ মাইকেল স্টেকলার রয়টার্সকে বলেন, ওই ধরনের ভূমিকম্প কবে ঘটতে পারে, সে পূর্বাভাস আরও গবেষণা না করে দেয়া সম্ভব নয় তবে ভূমিকম্প আসন্ন ভারতের পূর্ব অংশ বাংলাদেশের যে অঞ্চল সম্ভাব্য সেই ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, তার ১০০ কিলোমিটার ব্যাসের মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি মানুষের বসবাস ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অন্যতম দরিদ্র এই অঞ্চলে ধরনের একটি ভূমিকম্প মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে তেমন কোনো ভূমিকম্প হলে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা ভবন, ভারী শিল্প, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গ্যাস ক্ষেত্রগুলো ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে বলে গবেষকরা আশংকা করছেন আর সেই অর্থে রাজধানী ঢাকাই সবার আগে আশঙ্কাগ্রন্থ নগর কেননা, গঙ্গা ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ১৯ কিলোমিটার গভীর পলি জমে বাংলাদেশের যে ভূ-খন্ড তৈরি হয়েছে, তা সেই ভূমিকম্পের প্রভাবে জেলাটিনের মত কেঁপে উঠতে পারে এবং কিছু কিছু জায়গায় তরলে পরিণত হয়ে গ্রাস করতে পারে ইমারত, রাস্তাঘাট আর মানুষের বসতি তাদের গবেষণায় প্রায় ৬২ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে এই ভূমিকম্পের ঝুঁকির আওতায় বলা হয়েছে তেমন মাত্রার ভূমিকম্প সত্যিই হলে তার ক্ষয়ক্ষতি এতটাই ভয়াবহ হবে যে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা হয়তো বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি কম্পিউটার মডেল তৈরির মাধ্যমে গবেষকরা দেখিয়েছেন, বাংলাদেশ ভারতের পূর্ব অংশের ভূ-গঠনিক প্লেট উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গিয়ে মিয়ানমারের পশ্চিম অঞ্চলের ভূ-গঠনিক প্লেটে চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে সৃষ্টি হচ্ছে অস্থিরতা দুই প্লেটের সংযোগ স্থলে ভূমিকম্পের শক্তি জমা হচ্ছে অন্তত ৪০০ বছর ধরে ওই শক্তি একসঙ্গে মুক্তি পেলে তা প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে অবশ্য সকল আলোচনার পাশাপাশি সংশয়ের বিষয় হলো এই যে, বিষয়ে মাইকেল স্টেকলার রয়টার্সকে বলেছেন, এমন একটি বিপদ যে ঘনিয়ে আসছে সে ধারণা গবেষকদের কারও কারও মধ্যে ছিল কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্য বা মডেল এতোদিন হাতে ছিল না আমরা জানি না, ঠিক কবে সেই বিপদ আসবে, কারণ আমরা জানি না শেষ কবে ওই এলাকায় রকম পরিস্থিতি হয়েছিল আমরা বলতে পারছি না- এখনই, না ৫০০ বছর পরে সেই ভূমিকম্প হবে কিন্তু আমরা নিশ্চিতভাবে দেখতে পাচ্ছি- ওখানে শক্তি জমা হচ্ছে

 

আমাদের এই দেশে সন্ত্রাসের রামরাজত্ব-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য যেভাবে বেড়ে উঠেছে; সেভাবে ভয়ের যথেষ্ট কারনও রয়েছে কেননা, পাপ তার বাপকেও ছাড়ে না তার উপর আমরা আমাদের প্রথম রাষ্ট্রপতিকে খুন করেছি, খুন করেছি কৃষি বিপ্লবের রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানকে, খুন করেছি নাম না জানা অসংখ্য প্রিয় মানুষকেব; যারা কারো না কারো কাছে ছিলেন নিজের জীবনের চেয়েও প্রিয়  সেই প্রিয়দের হন্তারক জাতি হিসেবে ভূমিকম্পে ধ্বংশ হয়ে যাবো, এটা তেমন বড় কোন শান্তি না হলেও সতর্ক থাকবো তাদের জন্য; যারা পাপ নয়; অন্যায় নয়; ন্যায়ের আলোতে আলোকিত করতে এগিয়ে আসছে তাদের জন্য অন্তত বেঁচে থাকার-কিছুটা নিরাপদে থাকার কথা বলা প্রয়োজন বলেই ভূমিকম্প থেকে বাঁচার করণীয় নিয়ে আজকের এই দীর্ঘকায় লেখার সূচনা

 

গবেষণা অনুযায়ী অনেক কথা উঠে এসেছে গণমাধ্যমে কিন্তু তার মধ্যে অন্যতম কথাটি হলো, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন ভূপদার্থবিদ ভারতীয় উপমহাদেশের নিচে একটি অঞ্চল চিহ্নিত করেছেন,  যেখানে একটি টেকটনিক প্লেট অন্য এটি প্লেটের ওপর ক্রমশ চেপে বসছে ধরনের অঞ্চলকে গবেষকরা সাবডাকশন জোন বলছেন ২০০৪ সালের প্রলয়ঙ্করী সুনামি ২০১১ সালে জাপানের ভূমিকম্পেও এই একই ধরনের সাবডাকশন জোনের ভূমিকা ছিল ২০১১ সালে জাপানের ভূমিকম্পের ফলে দেশটির ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্র বিধ্বস্ত হয়েছিল এখন কথা হলো যদি এমন পরিস্থিতিতে পরে যাই তখন কি করতে হবে? ভূমিকম্প-ঝুঁকি যেহেতু অতিমাত্রায়; সেহেতু আমাদের করণীয় অনেক নয়; অল্পই আর তার মধ্যে অন্যতম হলো- ভয় পেয়ে দৌড়াদৌড়ি না করে শান্ত ভাবে কয়েকটি কাজ করে ফেলা প্রথমত বিল্ডিং হলে টেবিল বা খাটের নিচে চলে যাওয়া দ্বিতীয়ত রাস্তায় বা খোলা কোন স্থানে হলে সেখানেই বড় বিল্ডিং-এর কাছ থেকে যতদূর সম্ভব দূরে অবস্থান করা কেননা, আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, এখনো প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি মানুষ আমরা কতটা অসহায় সেটা ভালোভাবে বোঝা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তখন নিয়তির কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না তবে হ্যাঁ, ভূমিকম্প, সুনামি, অগ্নুৎপাত, বন্যা প্রভৃতি দুর্যোগ হয়তো ঠেকানো যাবে না, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি থাকলে প্রাণহানি সম্পদহানি কমানো যায় এজন্য নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদিএবং স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা প্রস্তুতি গত দুই দশক ধরেই বাংলাদেশে ভূমিকম্প ঝুঁকির বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়ানোর উপায় না থাকলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে তবে সে পথে নেই বাংলাদেশ বরং অপরিকল্পিত নগরায়ন, ভবন নির্মাণ, জলাশয় ভরাট প্রভৃতি কর্মকান্ড ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে তুলছে যেসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই ভূমিকম্প সহনীয় নয় আইন রয়েছে শুধু কাগজে এসব কারণে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প হলে পুরো নগর  ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে রাজউকের এক হিসাবে বলা হয়েছে, ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ির সংখ্যা ৩২১টি অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের হিসাবে ৫৮৫টি স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্পেই এসব ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে অথচ পরিবেশবাদী সংগঠন ইউএনজিপি বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি তো প্রায় ৩০ হাজার কারণ হিসেবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে প্রকৃত অর্থে গত ১০ বছরে নির্মিত শতকরা ৯০ টি ভবনেরই বিল্ডিং কোড মানার রেকর্ড নেই যা আছে, তা কেবল মুখে আর কাগজে কলমে অবশ্য সেই সাথে বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশের ভূ-অভ্যন্তরে তিনটি বড় ধরনের ভূচ্যুতি রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গবেষণা অনুযায়ী, এই ভূচ্যুতির কারণে বাংলাদেশের ৪৩ শতাংশ এলাকা উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে (জোন-), ৪১ শতাংশ এলাকা মধ্যম (জোন-) এবং ১৬ শতাংশ এলাকা নিম্ন ঝুঁকিতে (জোন-) রয়েছে জোন-- রয়েছে সিলেট, ময়মনসিংহ, কুড়িগ্রামসহ কয়েকটি জেলা জোন-- পড়েছে রাজশাহী, ঢাকা চট্টগ্রামের মতো বড় তিন শহর খুলনা বরিশালের অবস্থান জোন- সাথে সাথে মনে রাখতে হবে যে, টাঙ্গাইলের মধুপুর চ্যুতি, সিলেটের ডাওকি চ্যুতি, সীতাকুন্ড টেকনাফ চ্যুতি এবং উত্তর আন্দামান-টেকনাফ সাবডাকশন জোন সক্রিয় হওয়ায় ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ এছাড়াও যে বিষয়টি লোমহর্ষক, সে বিষয়টি হলো- সরকারের সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিডিএমপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকায় রাতের বেলায় থেকে দশমিক মাত্রার ভূমিকম্প হলে ৯০ হাজার মানুষ হতাহত হবেন দিনের বেলায় হতাহত হবেন ৭০ হাজার ঢাকা মহানগরে তিন লাখ ২৬ হাজার ভবনের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, এর ৭২ হাজার সম্পূর্ণ ধ্বংস হবে কেননা, ঢাকা মহানগরীর ৬৫ শতাংশ ভবন জলাশয় ভরাট করে বালুমাটির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে, যা মাত্র মাত্রার ভূমিকম্পও সহনীয় নয় রাজধানীর পূর্ব পশ্চিমে জলাশয় ভরাট করে গড়ে ওঠা ভবনগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশের ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হলে কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারত, তা কল্পনাও করা যাবে না শুধু ঢাকায় ভূমিকম্পে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হবে সারা দেশে ক্ষতির পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে মহাখালী ফ্লাইওভার ছাড়া আর কোনো ফ্লাইওভারই ভূমিকম্প সহনীয় নয় বিশ্বের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে এখন হালকা ইমারত নির্মাণকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে অথচ বাংলাদেশে ভূমিকম্পরোধক ব্যবস্থা না রেখেই বড় বড় ইমারত করা হচ্ছে ভূমিকম্প হলে বিদ্যুৎ গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে

 

একটু পেছনে ফিরে গেলে দেখবো যে, আমাদের পার্শ্ববর্তী আসামে সর্বশেষ ১৯৫০ সালে দশমিক মাত্রার ভূমিকম্প হয় দেশের ভেতরে ডাউকি ফাটলের কারণে ১৮৯৭ সালে দশমিক মাত্রার ভূমিকম্পে ভারত বাংলাদেশের এক হাজার ৫৪২ জন নিহত হন এর মধ্যে ঢাকার ১০ জনসহ বাংলাদেশের মোট ৫৪২ জন ছিলেন এর আগে ১৮৬৯ সালে দশমিক মাত্রার এবং ১৮৮৫ সালে মধুপুর-বগুড়া ভূচ্যুতিতে মাত্রার ১৯৩০ সালে দশমিক মাত্রার ভূমিকম্প হয় ১৮৮৫ সালের ভূমিকম্পেই যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যায় সাধারণত ১১০ থেকে ১৩০ বছর পর পর বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটে ভূকম্পনের জন্য শক্তি সঞ্চার করতে ভূ-অভ্যন্তরে সাধারণত সময় লাগে বাংলাদেশে তিনটি বড় ভূমিকম্প হয়েছে শত বছর আগে যেহেতু যেকোনো সময় বাংলাদেশ, ভারত মিয়ানমারের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্প হতে পারে, যার উৎপত্তিস্থল হবে বঙ্গোপসাগর এতে তিন দেশে ১০ লাখ মানুষ হতাহত হতে পারে; সেহেতু সবাইকে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে মনেও রাখতে হবে যে, ২০০৭ সালে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক বুলেটিনে জানানো হয়েছিলো, ইরানের রাজধানী তেহরান ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা শহর এখন এই শহরের বাসিন্দারা সিদ্ধান্ত নেবেন যে, তারা কতটুকু সতর্ক হবেন, কতটুকু অন্যায় আর অপরাধ থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে আনবেন এবং কতটুকু কালো থেকে আলোর দিকে এগিয়ে আসার পাশাপাশি সাহসের সাথে-সততার সাথে ঘুরে দাঁড়াবেন এই সব তথাকথিত ফ্লাইওভার উন্নয়ন আর ভবনের পর ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে

        

চেয়ারম্যান, নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি

Email: [email protected]

০১৬৭৫১৭৯১৮৯





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)