শিরোনাম:
ভোলা, শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ভোলার সংবাদ
বুধবার ● ১৯ জানুয়ারী ২০২২
প্রথম পাতা » আইন ও অপরাধ » চরফ্যাশনে গুড়িয়ে দেয়া অবৈধ ইট ভাটা পুনঃ রায় চালু
প্রথম পাতা » আইন ও অপরাধ » চরফ্যাশনে গুড়িয়ে দেয়া অবৈধ ইট ভাটা পুনঃ রায় চালু
২২৫ বার পঠিত
বুধবার ● ১৯ জানুয়ারী ২০২২
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

চরফ্যাশনে গুড়িয়ে দেয়া অবৈধ ইট ভাটা পুনঃ রায় চালু

---

চরফ্যাশন প্রতিনিধি: গত বছর চরফ্যাশন উপজেলার ৬টি অবৈধ ইট ভাটা ভেঙে দেয়ার পরেও অসাধু ব্যক্তিদের ছত্র ছায়ায় আবারো তা চালু করেছে প্রভাবশালী মহল। শুধুমাত্র ড্রাম সিটের চিমনি দাড় করিয়ে হাজার, হাজার টন বনের কাঠ উজাড় করে ফসলি জমির মাটি ও ভাটা সংলগ্ন সরকারী খালের মাটি দিয়ে এ ভাটা গুলোতে ইট পোড়াচ্ছে অবৈধ ব্যবসায়ীরা। বেতুয়া টু চরফ্যাশন সড়কে স্কুলের পাশে রয়েছে “মেসার্স এ আলী” নামক ব্রিকফিল্ড। 

জানাযায়, সরকারি ভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে উঠেছে প্রায় ১০টি অবৈধ ইট ভাটা। এসব অবৈধ ভাটার নেই কোনো পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন বা ছাড়পত্র। প্রশাসনের বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে ইট পোড়ানো হচ্ছে এসব ভাটা গুলোতে। চরফ্যাশন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা দক্ষিণ আইচার মানিকা, হাজারীগঞ্জ, চরকলমী, আবদুল্লাহপুর, রসুলপুর, নীলকমল, ঘোষেরহাট, আসলামপুর ও মাদ্রাজ ইউনিয়নে রয়েছে এ ভাটাগুলো। 

সরজমিন ঘুড়ে দেখা যায়, ভাটা গুলোতে রয়েছে গাছ কাটার সমিল। এ সমিলে হাজার হাজার মন লাকড়ি ও গাছের গুড়ি কেটে ইট পোড়ানোর কার্যক্রম চলছে। দিন রাত কাঁচা ইট তৈরী করে সাড়িসাড়ি ইট সাজিয়ে রোদে শুকানো হচ্ছে। স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলছেন, ফসলী জমিতে অবৈধ ভাবে ড্রাম সিটের তৈরী চিমনি ব্যবহার করে লাকড়ি দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। যার ফলে এলাকার গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ আবাল বৃদ্ধরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। অবৈধ ভাটার কালো ধোয়ার কারণে ভাটা সংলগ্ন জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও স্থানীয় কৃষকরা জানান। 

কৃষক সালাম হাওলাদার বলেন, অবৈধ ভাটা গুলোর বিষয়ে প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। এর আগে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কয়েকটি বিক্স গুড়িয়ে দিলেও পুনরায় ওই ব্রিক্স গুলো অসাধু কর্তা ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে চালু করেছে দাবী করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কৃষক লতিফ মিয়া বলেন অবৈধ ইট ভাটার কারণে আমার ৬-একর জমিতে কোন ফসল ফলাতে পারিনা। জমি গুলো কারো কাছে লগ্নী করতেও পারিনা। চাষিরা এই জমি নিতে চাচ্ছেনা। 

স্থানীয় একাধীক এলাকাবাসী বলেন, কলমী ৯নং ওয়ার্ডের চর-মঙ্গল মৌজায় প্রায় ৫একর সরকারি জমির মধ্যে মানুষের ভোগ দখলীয় ফসলী জমি নষ্ট করে আবাসিক এলাকায় ড্রাম সিট চিমনি দ্বারা লাকড়ি পুড়িয়ে ইট তৈরী করা হচ্ছে। হাজার হেক্টর জমির ফসলী ক্ষেত বনজ ও ফলদ বাগানসহ শতাধিকের বেশি বসত বাড়ি রয়েছে ভাটাগুলোর পাশে। এ ভাটাগুলো গত বছর প্রশাসন ভেঙে দিলেও তা পুনরায় তৈরী করেছে প্রভাবশালী মহল গুলো। দক্ষিণ আইচা মানিকা ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক বাসিন্দা বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত অনেক ইট ভাটা রসংশ্লীষ্ট প্রশাসনের অনুমোদন ও ছাড়পত্র না থাকলেও অদৃশ্য অনুমোদন ও মাসিক চাঁদার ছাড় পত্রেই চলছে ভাটা গুলো। 

পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ভেঙে দেয়ার পরেও পুনরায় এ অবৈধ ইট ভাটা নির্মাণ করে ইট পোড়ানো হলেও উপজেলা প্রশাসন ও ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল বলেন, এর আগেও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় অবৈধ ইট ভাটা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরেও অবৈধ ভাটা গুলোর কার্যক্রম নজরে আসছেনা সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোর।  ভাটা গুলোতে নদী ও খাল থেকে ড্রেজিং দিয়ে মাটি এনে ইট তৈরী করা হচ্ছে বলেও ভাটা সংলগ্ন বাসিন্দারা দাবি করেন। 

তাঁরা বলেন, রাতভর ড্রেজিং ও বেকু দিয়ে ফসলী জমির পাশে মাটি কেটে গভীর খনন করে ইট তৈরীর মাটি সংগ্রহ করছে ভাটা গুলো। ভেঙে ফেলা ভাটা গুলো পুনরায় নির্মাণের বিষয়ে কয়েকটি ভাটার মালিক জানান, তাঁরা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। এর পরেও প্রশাসনের অভিযানে তাদের ভাটা গুলো ভেঙে ফেলা হয়। যার ফলে তাঁরা লাখ লাখ টাকার লোকসানে পড়েন। ছাড়পত্রের জন্য পরিবেশ বান্ধব ঝিকঝাক ভাটা নির্মাণে প্রচুর ইটের প্রয়োজন। আর তাই কিছু ইট পুড়িয়ে পরিবেশ বান্ধব চিমনি তৈরী করতে হবে বলে জানান তারা। 

সম্প্রতি চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ বিষয়ক সভায় আসলামপুর আয়শাবাগ সরকারি প্রাথমিক স্কুল সংলগ্ন বাবুলের এ আলী নামক ব্রিকস ফিল্ড রয়েছে। যা  কোমল মতি শিশুদের স্বাস্থের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে। তার পরেও পরিবেশ অধিদপ্তর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। 

ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক বলেন, ড্রাম সিট চিমনি ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ। আমরা সম্প্রতি শানিমা-২, মাইশা-২ ও ফরাজী ব্রিক্সে অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছি এবং ভেঙে ফেলা যেসব ব্রিক্স গুলো পুনঃরায় নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলোর কোনো অনুমোদন নেই। এ আলীসহ কয়েকটি ব্রিক্ ফিল্ডে সেপ্টেম্বরে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আইন না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  গ্রহণ করা হবে। তবে ঠিক কতটি অবৈধ ভাটা রয়েছে জানতে চাইলে তার সদুত্তর দেননি এ কর্মকর্তা।


-আমির/রাজ

 





আইন ও অপরাধ এর আরও খবর

বোরহানউদ্দিনে বিশ হাজার গলদা রেনু’ জব্দ, জরিমানা বোরহানউদ্দিনে বিশ হাজার গলদা রেনু’ জব্দ, জরিমানা
ভোলায় দুই কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক ভোলায় দুই কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক
লালমোহন কামিল মাদ্রাসার বিএসসি শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ লালমোহন কামিল মাদ্রাসার বিএসসি শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ
লালমোহনে তেল মজুতের দায়ে ডিলারের জরিমানা লালমোহনে তেল মজুতের দায়ে ডিলারের জরিমানা
ভোলার আলোচিত জোড়া খুনের মামলায় দুই জনের ফাঁসি ও এক জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোলার আলোচিত জোড়া খুনের মামলায় দুই জনের ফাঁসি ও এক জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ভোলায় প্রাইভেটকার থেকে ৪০ কেজি গাঁজা জব্দ, আটক ২ ভোলায় প্রাইভেটকার থেকে ৪০ কেজি গাঁজা জব্দ, আটক ২
তজুমদ্দিনে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে যাচ্ছে ক্রাইম চক্রের সদস্যরা তজুমদ্দিনে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে যাচ্ছে ক্রাইম চক্রের সদস্যরা
চোর-ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘূম রাত কাটছে দুই ইউনিয়নবাসীর চোর-ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘূম রাত কাটছে দুই ইউনিয়নবাসীর
ভোলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি’র সভাপতিসহ ৮ ও আ’লীগের সম্পাদকসহ  ৫ জন নির্বাচিত ভোলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি’র সভাপতিসহ ৮ ও আ’লীগের সম্পাদকসহ ৫ জন নির্বাচিত
বোরহানউদ্দিনে বৃদ্ধার উপর হামলার অভিযোগ বোরহানউদ্দিনে বৃদ্ধার উপর হামলার অভিযোগ

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)