শিরোনাম:
ভোলা, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮

ভোলার সংবাদ
শনিবার ● ২৯ মে ২০২১
প্রথম পাতা » কৃষি » বোরহানউদ্দিন খাদ্য গুদামে ধান ক্রয়ে ব্যাপক নয় ছয়ের অভিযোগ, কৃষকদের ক্ষোভ
প্রথম পাতা » কৃষি » বোরহানউদ্দিন খাদ্য গুদামে ধান ক্রয়ে ব্যাপক নয় ছয়ের অভিযোগ, কৃষকদের ক্ষোভ
২৭৭ বার পঠিত
শনিবার ● ২৯ মে ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বোরহানউদ্দিন খাদ্য গুদামে ধান ক্রয়ে ব্যাপক নয় ছয়ের অভিযোগ, কৃষকদের ক্ষোভ

 

---

বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার খাদ্যগুদামে ধান ক্রয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতির  অভিযোগ উঠেছে। লটারি মাধ্যমে কৃষক নির্বাচিত হয়েও ধান দিতে না পেরে ক্ষুদ্ধ কৃষকরা। আর এসকল অভিযোগের তীর উঠেছে ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মহিমা আক্তার ও তার স্বামী মো. বেল্লাল এর বিরুদ্ধে। সরকার কৃষকদের জন্য মহতি উদ্যোগ নিলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারনে তার সুফল পাচ্ছে না কৃষকরা। তাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এর সাথে জড়িতদের বিচার দাবীসহ লটারীতে নির্বাচিতরা যাতে ধান দিতে পারে তার ব্যবস্থার দাবী জানান ভুক্তভোগী কৃষকরা।

সূত্র জানায়, সরকার মণ প্রতি ১০৮০ টাকা করে উপজেলায় ১৩শত ৬৬ মেট্রিক টন ধান কৃষক হতে ক্রয় করার উদ্যোগ নেয়। কৃষক হতে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করে তা লটারী দেন। প্রথম ধাপে ৪১৩ জন ও দ্বিতীয় ধাপে ২১৩ জন কৃষক লটারী মাধ্যমে ধান দিতে পারবে বলে নির্বাচিত হন। ওই লটারীতে যাদের নাম আছে তারা অনেকেই ধান দিতে পারেনি। তারা ধান দিতে চাইলেও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মহিমা আক্তার জানান ধান ক্রয় করা হয়ে গেছে এখন আর নেয়া যাবে না। তবে এ ধান ক্রয়ে অনিয়মে নেতৃত্বে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মহিমা আক্তারের এর স্বামী মো. বেল্লাল হোসেন এর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষকরা জানান, আমরা লটারীর মাধ্যমে ধান দিতে পারবো বলে নির্বাচিত হয়েছি। ধান দেয়ার জন্য খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মহিমা আক্তারের কাছে আসলে তিনি বলেন ধান ক্রয় হয়ে গেছে। আপনারা দেরিতে আসলেন কেন। কৃষক বলেন, আমাদের কাছে যে ম্যাসেজ এসেছে আগামী মাসের ৭ জুন পর্যন্ত ধান দিতে পারবো। ধান শুকানো শেষ বস্তার জন্য এসে শুনি ধান কিনা শেষ আমরা এখন এ ধান কি করবো। তারা আরোও বলেন, টাকা দিয়ে কম্পিউটার হতে আবেদন করেছি। সময় টাকা সব নষ্ট হলো। আমরা প্রকৃত অনেক কৃষকরা ধান দিতে পারিনি। আর এ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার স্বামী মো. বিল্লাল হোসেন কিছু ব্যবসায়ীর সাথে সখ্যতা করে অনেক টন ধান দেয়। সরকার আমাদের ন্যায্য দাম পাওয়ার জন্য উদ্যোগ নিলেও অসাধু কর্মকর্তাদের কারনে আমরা তার সুফল পাচ্ছি না।

কৃষকরা আরোও জানান, যারা ধান দিতে পেরেছে তাদের কাছ হতে ১শত বস্তায় ৩ হাজার হতে ৫ হাজার টাকা করে জামানত হিসাবে নিচ্ছে এ কর্মকর্তা। এছাড়া বস্তায় ৪০ কেজি ধানের পরিবর্তে নিচ্ছে ৪২ হতে ৪৩ কেজি। বিল না পাওয়ার ভয়ে কেউ এ কর্মকর্তার অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না বলে জানান তারা। তারা আরোও দাবী করেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত লটারী পাওয়া কৃষকরা যাতে সরকারি সুফল পায় তার ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কৃষকরা জানান, সাচড়া ইউনিয়নে কয়েক জন কৃষক ৩০ টন ধান দিতে পারবে বলে নির্বাচিত হন। তাদের কাছ হতে ১৬ টন ধান নিয়ে এ খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা বলেন ধান ক্রয় হয়ে গেছে আপনাদের কাছ হতে আর ধান নেয়া যাবে না।

উপজেলার কুতুবা ৮নং ওয়ার্ডের কৃষক বিশ্বজিৎ অভিযোগ করে বলেন, দিলিপ, অপুরক্ষিতসহ লটারীর মাধ্যমে ৩ জনে ৯ টন ধান দেয়ার জন্য নির্বাচিত হই। ধান দিতে আসলে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মহিমা বলেন, ধান ক্রয় করা হয়ে গেছে। তিনি আরোও জানান, আমাদের ধান দেয়ার তারিখ ৭ জনু পর্যন্ত রয়েছে। কৃষকরা অনেক হয়রানী হচ্ছে। দেখার কেউ নেই।

 এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ওমর ফারুক বলেন, লটারীতে নির্বাচিত হওয়া কিছু কৃষক এসে আমার কাছে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেছে তারা ধান শুকিয়ে ধান দিতে এসেছে কিন্তু খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা বলছে নাকি ধান ক্রয় শেষ হয়ে গেছে। কৃষকরা আমার কাছে তাদের ক্ষতির কথা তুলে ধরেন। আমি এ বিষয়গুলো উপজেলা নির্বাহী স্যারকে অবহিত করেছি।

এব্যাপারে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মহিমা আক্তার তার এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লটারীতে নির্বাচিত ছাড়াও যে কৃষক আগে ধান নিয়ে এসেছে তাদের কাছ হতে ধান ক্রয় করেছি। কারণ দ্রুত ধান ক্রয় সম্পূর্ণ করতে হবে। অদ্যবধি ১২শত মেট্রিক টনের বেশি ধান ক্রয় করা হয়েছে। ধান বেশি নেয়ার ব্যাপারে বলেন, ধান উঠাতে নামাতে এবং বস্তার ওজন হিসাবে বেশি নেয়া হচ্ছে। বস্তার জন্য টাকার ব্যাপারে বলেন, আগের অফিসারের নিয়মেই বস্তার জন্য টাকা জামানত হিসাবে রাখা হয়। পরবর্তীতে এগুলো দিয়ে দিব।তার স্বামীর ব্যাপারে বলেন, যখন আমার কোন স্ট্যাফ অসুস্থ্য থাকে তখন সে একটু সহযোগিতা করে এবং কৃষকরা আসলেও তাদের কে সহযোগিতা করেন।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুর রহমান বলেন, কৃষি অফিসার কিছু কৃষকদের মৌখিক অভিযোগের কথা বলেছে। যদি কৃষকরা সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

-এএম/এফএইচ





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)