নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলার মেঘনায় চিংড়ির রেণু আহরণ

---

এম শাহরিয়ার জিলন: ভোলার মেঘনা তেঁতুলিায় সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চিংড়ি রেণু সংগ্রহের ফলে অন্যান্য প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলছে। মশারী জালের মাধ্যমে রেণু সংগ্রহ করায় চিংড়ি ছাড়াও অন্যান্য প্রজাতির রেণু পোনা ধ্বংস হওয়ায় অন্যান্য মাছের বংশ বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। স্কুলগামী শিশুরা স্কুলে যাওয়া বাদ দিয়ে রেণু সংগ্রহের জন্য জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়ায় তাদের শিক্ষা জীবন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভোলায় সংগ্রহীত চিংড়ি রেণুর প্রধান বাজার হচ্ছে খুলনা বাগেরহাট এলাকায়। সরজমিনে সদর উপজেলার রাজাপুর, ইলিশা, কাচিয়া, ধনিয়া, শিবপুর, ভেলুমিয়া এলাকায় রেণু সংগ্রহকারী, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে চিত্র পাওয়া গেছে।

রেণু ধরার সময় কয়েকজন বলেন, মশারীর কাপড় দিয়ে তৈরী খুচি জালের রেণু সংগ্রহ করা হয়। রেণু সংগ্রহকালে বিভিন্ন প্রজাতির শত শত পোনা জালে ওঠে এর মধ্য থেকে খুব সুক্ষভাবে গলদা চিংড়ি রেণু সংগ্রহ করা হয়। চিংড়ি রেণু সংগ্রহকালে অন্যান্য প্রজাতির শত শত রেণু পোনা নষ্ট হয় বলে তারা স্বীকার করেন। তারা আরও বলেন, ক্ষেতে-খামারে দিনমজুরি করেন। প্রতিবছর এই সময় চিংড়ির রেণু ধরে বিক্রি করেন। পোনা ধরা নিষিদ্ধ হওয়ায় পুলিশের ভয়ে তারা তাদের নাম-পরিচয় বলতে চাননি। পোনা ধরে দৈনিক তাদের ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হয় বলে তারা জানান।

ইলিশা কাচিয়া ইউনিয়নের মৎস্য ব্যবসায়ী আবুল কাশেম, মোঃ আঃ মান্নান, মনির হোসেন জানান, ভোলা সংলগ্ন নদীগুলোতে ২০০০ সাল থেকে চিংড়ি রেণু সংগ্রহ শুরু হয়। এর পর থেকেই নদীর অন্যান্য প্রজাতির মাছ কমতে শুরু করেছে। কমতে কমতে অনেক মাছ বিলুপ্ত হওয়ার পথে।

তারা জানান, চুলের ডাডি, বাইলা, পোয়া, ছুরুয়া, ফাইলসা সহ অনেক প্রজাতির মাছ এখন দু®প্রাপ্য হয়ে গেছে। এর মধ্যে চুলের ডাডি ফাইলসা বিলুপ্তির পথে। চিংড়ি রেণু ধরার সময় অন্যান্য মাছের পোনা নষ্ট হওয়ায় সে সব জাতের মাছের বংশ বৃদ্ধি হচ্ছেনা। ফলে ওইসব জাতের মাছ বিলুপ্ত হতে চলছে। তারা নদীর মাছ রক্ষায় নির্ধারিত সময়ে সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ এবং জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবী জানান।

রাজাপুর ইউনিয়নের একজন রেণু ক্রেতা বলেন, টাকা দরে পোনা কিনে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করি। অন্য পেশার পাশাপাশি এই মৌসুমি কারবারটা করি। এতে আমার ভালো আয় হয়। নদী থেকে রেণু ধরা নিষিদ্ধ তা জানেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সবাই তো করছে।

একাধিক প্রধান শিক্ষককের সাথে ব্যাপারে আলাপ করলে তারা জানান, চিংড়ি রেণু মৌসুম শুরু হলে স্কুলের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী রেণু সংগ্রহে নেমে পরে। - মাস পরে বেশির ভাগ শিশু আর স্কুলে ফিরে আসেনা। ওই সব শিশুদের শিক্ষা জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান রেণু ধরা নিষিদ্ধ করার কারণ সম্পর্কে বলেন, রেণু অতিক্ষুদ্র হওয়ায় তা ধরতে মিহি জাল ব্যবহার করা হয়। এই জালে আটকা পড়ে মারা যায় অন্য মাছ জলজ প্রাণীর অসংখ্য রেণু। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কিভাবে রেণু ধরা হচ্ছে বিষয়ে তিনি বলেন, রেণু শিকারিদের ঠেকানোর জন্য ঝটিকা অভিযানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সম্প্রতি কোস্ট গার্ড জেলা মৎস্য অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ব্যাপক রেণু জব্দ করে নদী পুকুরে অবমুক্ত করা হয়েছে

-এফএইচ


এ বিভাগের আরো খবর...
শশীভূষণে ধানক্ষেত থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার শশীভূষণে ধানক্ষেত থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
বোরহানউদ্দিনে নৌকা বাইচ দেখতে এসে পানিতে ডুবে কিশোরের মৃত্যু বোরহানউদ্দিনে নৌকা বাইচ দেখতে এসে পানিতে ডুবে কিশোরের মৃত্যু
দৌলতখানে অপহরণের ১ মাস পর মুলাদী থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী উদ্ধার, আটক ১ দৌলতখানে অপহরণের ১ মাস পর মুলাদী থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী উদ্ধার, আটক ১
ভোলা-চরফ্যাশন রুটে ১০ ঘন্টা বাস চলাচল বন্ধ ভোলা-চরফ্যাশন রুটে ১০ ঘন্টা বাস চলাচল বন্ধ
ভোলায় আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসে সম্মাননা প্রদান ভোলায় আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসে সম্মাননা প্রদান
দৌলতখানে মেঘনার তীরেই ইলিশ কেনা বেচার ধুম দৌলতখানে মেঘনার তীরেই ইলিশ কেনা বেচার ধুম
ভোলায় বাবাকে কুপিয়েছেন মাদকাসক্ত ছেলে ! ভোলায় বাবাকে কুপিয়েছেন মাদকাসক্ত ছেলে !
ভোলায় নির্যাতিতার পরিবারের পাশে ‘স্বপ্ন শিখর’ ভোলায় নির্যাতিতার পরিবারের পাশে ‘স্বপ্ন শিখর’
দুলারহাটে ৮ জেলে আটক, জাল জব্দ দুলারহাটে ৮ জেলে আটক, জাল জব্দ
দুলারহাটে স্ত্রীকে গরম দা দিয়ে ছ্যাকার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার দুলারহাটে স্ত্রীকে গরম দা দিয়ে ছ্যাকার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলার মেঘনায় চিংড়ির রেণু আহরণ
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)